মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “একুশের চেতনাকে ধারণ করে আমরা একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি।” তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, “১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিলেন, তাদের ত্যাগের ফলে আজ আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। একুশের সেই রক্তাক্ত পথ ধরেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলা ভাষা শুধু আমাদের আত্মপরিচয়ের বাহন নয়, এটি আমাদের জাতির গৌরবের প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য আমাদের সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী প্রতিটি ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা প্রতিটি জাতির জন্য গৌরবের বিষয়।”
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়ে বলেন, “একুশের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা। সেই চেতনাকে ধারণ করে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি।”
তিনি যোগ করেন, “আমরা ৫২-এর ভাষা শহীদ, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বিশ্বব্যাপী সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আসুন, আমরা আমাদের দেশের ভাষিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করি এবং বাংলা ভাষার প্রমিত ব্যবহার ও সঠিক চর্চা নিশ্চিত করি।”
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এমনভাবে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়া আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”