ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাধারণ আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সময়সীমা বিবেচনায় রেখে রমজান মাসের মধ্যেই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, কমিশনের লক্ষ্য ঈদের আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করা। তিনি বলেন, আইনি সময়সীমা অতিক্রমের সুযোগ নেই; তাই দ্রুত প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রোজার মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসন পায়, সংরক্ষিত নারী আসনও সেই অনুপাতে বণ্টিত হয়। অর্থাৎ এটি সরাসরি জনগণের ভোটে নয়; বরং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে দলভিত্তিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
কোনও দল সাধারণ আসনে একাধিক আসন না পেলে তারা সংরক্ষিত নারী আসন পায় না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এককভাবে এই আসনের জন্য মনোনয়ন পান না। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দলীয় শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বাধিক ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পায় ৬৮টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়ী হয়। এছাড়া কয়েকটি দল একটি করে আসন পেয়েছে।
এই ফলাফলের ভিত্তিতেই এখন সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হবে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল স্বাভাবিকভাবেই বেশি সংখ্যক নারী আসন পাবে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির মনোনীত ছয়জন নারী প্রার্থী বিজয়ী হন। এছাড়া একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য ইতিবাচক হলেও সংরক্ষিত নারী আসন এখনো সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হলে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবে। স্থগিত বা শূন্য আসনগুলোতে ভোট আয়োজনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। ঈদের আগেই নির্বাচন শেষ হলে জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গঠন সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।