মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার এলাকার সাবেক কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশে অবস্থিত হাসিনা আটা মিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান। অভিযানে দেখা যায়, ওই মিল বীজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ভুট্টা মিলে ভেঙে গরু–মহিষসহ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করছে, যেখানে ভুট্টার ওপর আগেই ছত্রাকনাশক ও অনিরাপদ রঙের প্রলেপ দেওয়া ছিল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এ অপরাধের দায়ে হাসিনা আটা মিলের মালিকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে মিল থেকে ছত্রাকনাশক ও রঙের প্রলেপযুক্ত প্রায় ৩০০ বস্তা বীজ ভুট্টা ও তা দিয়ে তৈরি গবাদি পশুর খাদ্য জব্দ করা হয় এবং পরবর্তীতে এগুলো ধ্বংস করা হয়। সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, ছত্রাকনাশক প্রলেপ দেওয়া বীজ ভুট্টা মানুষের খাদ্য তো বটেই, গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য মিল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে বলেও তিনি জানান।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জানান, বীজ ভুট্টাগুলো সিরাজগঞ্জ থেকে আনা হয়েছে এবং এগুলো গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা আইনবিরুদ্ধ—এ তথ্য তার অজানা ছিল। তবে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা–সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে সচেতন না হওয়া কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের ‘অজুহাত’ হতে পারে না; জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয় এমন কোনো পণ্য উৎপাদন বা বাজারজাত করলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আরিফুল হাসান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, জেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম এবং পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। অভিযান শেষে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আশপাশের আরও কয়েকটি খাদ্য ও পশুখাদ্য–বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ করা হয়। সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ভেজাল ও ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।