ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় গত শনিবার রাতে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবদুর রহিম (৪৫) নৃশংসভাবে কুপিয়ে নিহত হয়েছেন। ঘটনার ঠিক একদিন আগে তাঁর ছেলেকে পেটানো হয়েছিল গুরুতর জখম অবস্থায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবদুর রহিম ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর ছেলে আমির হোসেনকে বর্বরোচিতভাবে পেটানো হয়েছিল পূর্বে, যা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হয়। ঘটনার রাত আবদুর রহিম বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে বিবি রহিমা জানিয়েছেন, “বাবাকে রাস্তার পাশে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। আমি আমার ওড়না দিয়ে রক্ত আটকানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।”
স্থানীয়রা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড কেবল আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিরোধ নয়, বরং স্থানীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের অংশ। তবে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চরফ্যাশন-এর শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে খাসি খাওয়া এবং মাদক সংক্রান্ত বিরোধকেই হত্যার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চরফ্যাশন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।