ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়ের’ শুভেচ্ছা জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্র এ শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশে সফলভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশটির জনগণকেও অভিনন্দন জানিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটন সমর্থিত বার্তাটি ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসনের অফিসিয়াল বিবৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন, এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।’ দূতাবাস আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে এবার বিপুল উৎসাহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেছেন লাখো ভোটার; প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিএনপির একক অগ্রগামিতা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যে দেখা যায়, বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদের দুই–তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে এগিয়ে বা জয় নিশ্চিত করেছে, ফলে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পেয়ে সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
জুলাই ২০২৪–এর গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার পতনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য ‘প্রথম পোস্ট‑হাসিনা নির্বাচন’ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল। এ বাস্তবতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে স্বীকৃতি ও অভিনন্দন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া ঢাকাকে ঘিরে বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মার্কিন শুভেচ্ছা বার্তায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধ, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা যে আস্থার বার্তা দিয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়াই এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য নতুন সরকারের মূল পরীক্ষা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা