আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ভোটকেন্দ্রগুলির প্রায় ৯০ শতাংশ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্যের বাহিনী মাঠে নামানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করছি। এছাড়া নির্বাচনের তদারকি করতে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।”
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় পরিসরে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো মোতায়েন করা হচ্ছে। “এখন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই,”—বলেন তিনি। তবে, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে তার মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোসহ প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। ক্যামেরার চূড়ান্ত সংখ্যা বুধবার ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তার প্রয়োজনে কিছু কেন্দ্রে ড্রোন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
আবুল ফজল আরও জানান, নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে ৮৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি দাবি করেন, এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ নির্বাচনকালীন নাশকতার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ের, তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কোনো কারণ নেই।”