ভালোবাসার সপ্তাহের অন্যতম আকর্ষণীয় দিন টেডি ডে আজ। রোজ ডে দিয়ে শুরু হওয়া ভালোবাসার এই বিশেষ সপ্তাহের চতুর্থ দিনে বিশ্বজুড়ে প্রিয়জনকে টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশের রীতি পালন করা হয়।
ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ফুল, চকোলেট বা শুভেচ্ছা কার্ডের পাশাপাশি টেডি বিয়ার এখন বেশ জনপ্রিয় উপহার। কোমলতা, স্নেহ ও আন্তরিকতার প্রতীক হিসেবে টেডি বিয়ার উপহার দেওয়ার প্রচলন ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের মান-অভিমান দূর করতে কিংবা প্রিয় মানুষকে বিশেষ অনুভূতি দিতে টেডি বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধু একটি খেলনা নয়, বরং দূরে থাকা প্রিয়জনের স্মৃতি ও অনুভূতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
টেডি বিয়ারের ইতিহাসও বেশ আবেগঘন। ১৯০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট শিকারে গিয়ে একটি ভাল্লুক ছানাকে হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনাটি নিয়ে কার্টুনিস্ট ক্লিফোর্ড বেরিম্যান একটি কার্টুন আঁকেন। পরে সেই কার্টুন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মরিস মিকটম ও তার স্ত্রী প্রথম খেলনা ভাল্লুক তৈরি করেন। প্রেসিডেন্টের ডাকনাম ‘টেডি’ থেকে এর নাম রাখা হয় ‘টেডি বিয়ার’। এরপর ১৯০৩ সাল থেকে এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে।
টেডি ডে উপলক্ষে ভিন্ন ভিন্ন রঙের টেডির রয়েছে আলাদা আলাদা অর্থ। লাল রঙের টেডি গভীর ভালোবাসা ও আবেগের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। গোলাপি টেডি ভালোবাসার প্রস্তাব গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। কমলা টেডি নতুন সম্পর্ক বা আনন্দের বার্তা বহন করে। নীল টেডি আন্তরিক ভালোবাসা ও সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রকাশ করে এবং সবুজ টেডি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে টেডি বিয়ার উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতকরণও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই প্রিয়জনের ছবি বা নাম সংযুক্ত করে বিশেষভাবে তৈরি টেডি উপহার দিচ্ছেন। বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষকে চমকে দিতে তার পছন্দের রঙের টেডির সঙ্গে একটি ভালোবাসার বার্তা যুক্ত করাও এখন জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে।