শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

রমজান মাসের ফরজ, সুন্নত ও ওয়াজিব ইবাদত সম্পর্কে আলোচনা

ড. আজিজুল আম্বিয়া
  ২১ মার্চ ২০২৫, ১৬:১৬

রমজান মাস ইসলামের পবিত্রতম মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। এ মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে, যা এটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সিয়াম বা রোজা পালন এ মাসের প্রধান ইবাদত হলেও, অন্যান্য নফল ও ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা নিজেদের আমল বাড়িয়ে নিতে পারেন।রোযা বা রোজা (ফার্সি روزہ রুজ়ে), সাউম বা সাওম (আরবি صوم স্বাউম্‌, অর্থঃ সংযম), বা সিয়াম হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়। সাওমের অর্থ বিরত থাকা, আত্মসংযম, পরিশুদ্ধি। 

সুবহে সাদিক বা ভোরের সূক্ষ্ম আলো থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার, ইন্দ্রিয় তৃপ্তি এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমজান  মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض ফ্যর্দ্ব্‌) যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।ক্ষমার মহান বার্তা নিয়ে সমহিমায় হাজির হয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের প্রতিদান যেমন বহুগুণে বেড়ে যায়। এই মাস কল্যাণময় মাস। এ মাসে পবিত্র আল-কোরআন নাজিল হয়েছিল। এ মাস তাকওয়া ও সংযম প্রশিক্ষণের মাস। 

এ মাস সবরের মাস। এ মাস জীবনকে সব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়।কোরআনে আছে, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের পথপ্রদর্শক ও সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন। এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মীমাংসারূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে-কেউ এ-মাস পাবে, সে যেন এ-মাসে অবশ্যই রোজা রাখে। আর যে রোগী বা মুসাফির তাকে অন্য দিনে এ-সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না, যাতে তোমরা নির্ধারিত দিন পূর্ণ করতে পার ও তোমাদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে পার, আর তোমরা কৃতজ্ঞ হলেও হতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত  ১৮৫)।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে রায়্যান নামক একটি বিশেষ তোরণ আছে। এ তোরণ দিয়ে কিয়ামতের দিন শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। 

তাঁদের প্রবেশের পরে এই দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে, তাঁরা ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ কোরআনে আরও আছে,‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম (রোজা)-র বিধান দেওয়া হলো। যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার। (সুরা বাকারা , আয়াত : ১৮৩)। ফোকাহায়ে কেরাম রোজার মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা ফরজ দেখিয়েছেন। একটি হচ্ছে নিয়ত, দ্বিতীয়টি হচ্ছে পানাহার থেকে বিরত থাকা আর তৃতীয় ফরজ হলো সময়।রোজা অবস্থায় জৈবিক চাহিদা থেকে শুরু করে সকল ধরণের পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। 

আর নিয়ত অর্থাৎ সংকল্প করা বা ইচ্ছা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রাখলেন অথচ সংকল্প করলেন না বা ইচ্ছা পোষণ করলেন না বা নিয়ত করলেন না, তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হবে না।’ এজন্য প্রথমে নিয়ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত সুবহে সাদিক হতে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জৈবিক চাহিদা সম্ভোগ থেকে শুরু করে সকল ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বশেষ ফরজ হলো সময়। 

সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত- এ সময়ের মাঝে সকল ধরনের পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকতে হবে।তাহলে আমরা সিয়ামের তিনটি ফরজ পেলাম- একটি নিয়ত, দ্বিতীয়টি পানাহার থেকে বিরতি আর তৃতীয়টি সময় অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে সিয়াম পূর্ণ করতে হবে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে রায়্যান নামক একটি বিশেষ তোরণ আছে। এ তোরণ দিয়ে কিয়ামতের দিন শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। তাঁদের প্রবেশের পরে এই দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে, তাঁরা ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ কোরআনে আরও আছে,‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম (রোজা)-র বিধান দেওয়া হলো। যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার। (সুরা বাকারা , আয়াত : ১৮৩) রমজান মাস ইবাদতের বিশেষ মৌসুম। 

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। রমজানের প্রধান ইবাদত ‘সিয়াম’ বা রোজা পালন। রমজানের মূল প্রতিপাদ্য ‘আল-কোরআন’। রমজান মাসের উপহার তারাবির নামাজ। রমজানের বিশেষ উপহার ‘শবে কদর’। এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের ফজিলত ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। একেকটি নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের সমান।প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়; শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ১,৭৭৮)।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ 

‘যে ব্যক্তি ইমানসহ  সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসে রাত জেগে ইবাদত করবে (তারাবির নামাজ পড়বে), তার আগের গুনাহ মার্জনা করে দেওয়া হবে।’ ‘যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, খণ্ড: ১, হাদিস: ৩৭,৩৬ ও ৩৪)। রমজান মাসে বিশেষ ফরজ হলো  ১ মাস রোজা পালন করা। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, সাবালক, রোজা পালনে সক্ষম এমন সব বিশ্বাসী মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য রমজান মাসে রোজা পালন করা ফরজ। ঋতুমতী নারী, প্রসূতি মা (স্রাব চলাকালীন) এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা আদায় করবেন। এমন অক্ষম ব্যক্তি, যিনি পুনরায় সুস্থ হয়ে রোজা পালনের সামর্থ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তাঁরা প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ ফিদিয়া গরিব-মিসকিনকে প্রদান করবেন। 

এ মাসে ফরজে কিফায়া দুটি- ১.শাবানের চাঁদের হিসাব রাখা, ২.রমজানের তারিখের হিসাব রাখা।রজব ও শাবান মাসে বরকতের জন্য এবং রমজান মাস প্রাপ্তির দোয়া করা; রজব ও শাবান মাস থেকে রমজানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা ও বেশি পরিমাণে নফল রোজা পালন করা ও নফল নামাজ আদায় করা। রমজান মাসে প্রতি রাতে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ পড়া এবং তারাবি নামাজে খতমে কোরআন বা পূর্ণ কোরআন করিম পড়ার বা শোনার ব্যবস্থা করা।রোজার জন্য সাহ্‌রি খাওয়া, তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা, ইফতার করা এবং ইফতার করানো। অত্যধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করা; জাকাত প্রদান করা। কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করা। রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ করা (সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া); রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করা।স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, সাবালক, রোজা পালনে সক্ষম এমন সব বিশ্বাসী মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য রমজান মাসে রোজা পালন করা ফরজ। ঋতুমতী নারী, প্রসূতি মা (স্রাব চলাকালীন) এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা আদায় করবেন। 

এমন অক্ষম ব্যক্তি, যিনি পুনরায় সুস্থ হয়ে রোজা পালনের সামর্থ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তাঁরা প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ ফিদিয়া গরিব-মিসকিনকে প্রদান করবেন।হাদিসে কুদসিতে নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমারই জন্য, আমিই এর বিনিময় প্রতিদান দেব।’ ‘রোজা আমারই জন্য, আমিই এর বিনিময় প্রতিদান হব।’ (বুখারি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২২৬)।সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে জান্নাতে বিশেষ অভ্যর্থনা। রোজা ইসলামের তৃতীয় ফরজ বিধান। রোজা বলতেই আমরা শুধু রমজানের ফরজ রোজা বুঝি। অথচ ফরজ রোজা ছাড়াও অনেক প্রকার রোজা রয়েছে। 

রমজান মাসের রোজা ছাড়াও আরও অনেক রোজা রয়েছে। সেগুলো হলো―রোজা রাখা বা না রাখার দিক দিয়ে মোট ছয় প্রকার- ১. ফরজ রোজা―ফরজ রোজা আবার চার প্রকার। যথা―ক. রমজান মাসের রোজা। খ. কোনো কারণবশত রমজানের রোজা ভেঙে গেলে তার কাজা রোজা। গ. শরিয়তে স্বীকৃত কারণ ছাড়া রমজানের রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি রোজা রাখা। এবং ঘ. রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা ফরজ। মান্নতের রোজা দুই প্রকার। ১. কেউ কোনো কিছুর প্রত্যাশা করে যদি সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ উল্লেখ করে রোজার নিয়ত করে, তা হলে সে রোজা আদায় করা ফরজ। ২. অনির্দিষ্ট দিন-তারিখ উল্লেখ করে রোজার নিয়ত করে। দুটিই পরবর্তী সময়ে রাখা ফরজ। কেউ কেউ এগুলোকে ওয়াজিবও বলেছেন। ২. ওয়াজিব রোজা―নফল রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করা ওয়াজিব। (আলমুহাল্লা : ৪/২৯৩)৩. সুন্নত রোজা―মহররম মাসের নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখা। কেউ কেউ বলেছেন, সওমে দাউদ অর্থাৎ দাউদ (আ.) যে পদ্ধতিতে রোজা রাখতেন এসব পদ্ধতিতে রোজা রাখা সুন্নত। তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন রোজা রাখতেন না। এভাবে রোজা রাখা সুন্নত। (বুখারি, ১৮৭৮)৪. মুস্তাহাব রোজা―প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে রোজা রাখা। (ইবনে খুযাইমা ২১২৭)। 

প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখা। (আবু দাউদ ২৪৩৬)। কোনো কোনো ইমামের মতে, শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব।৫. নফল রোজা―মুস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছি ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পুণ্যের নিয়তে করা। রোজার ক্ষেত্রেও তাই। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৯৬)৬. হারাম রোজা―বছরের পাঁচ দিন রোজা রাখা হারাম। জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২, ও ১৩ এবং শাওয়াল মাসের ১ তারিখ। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিন, ঈদুল আজহার দিন ও আইয়ামে তাশরিকের তিন দিন।  (আবু দাউদ, ২৪১৮)পবিত্র রমজান মাসের রোজা ছাড়া আরও বেশ কিছু রোজা রয়েছে। 

সেগুলো হলো―১. শাওয়ালের ছয় রোজা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা আদায় করল- সে যেন সারা বছর রোজা পালন করল।’ (মুসলিম, ২৮১৫) ২. আরাফার দিন রোজা : রাসুল (সা.)-কে আরাফার দিনে, অর্থাৎ জিলহজ মাসের নবম তারিখে রোজা রাখা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে আল্লাহর কাছে আশা করি, তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের পাপের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম, ১১৬২) ৩. মুহররমের রোজা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসের পর সর্বোত্তম রোজা হলো, আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম, ১১৬৩)৪. আশুরার রোজা : আবু কাতাদা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-কে আশুরার রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ‘তা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা।’ 

(মুসলিম, ১১৬২)৫. শাবানের রোজা : আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে শাবান মাস ছাড়া অন্য মাসে অধিক পরিমাণে নফল সিয়াম পালন করতে দেখিনি।’ (বুখারি, ১৯৬৯)৬. প্রতি মাসে তিন রোজা : আবু হুরায়রা (রা.) রাসুল (সা.) সম্পর্কে বলেন, আমার বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন, প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দ্বি-প্রহরের পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ও নিদ্রার পূর্বে বিতিরের নামাজ আদায় করা।’ (বুখারি, ১৯৮১)৭. সপ্তাহে দুই দিন রোজা : সপ্তাহে দুই দিন অর্থাৎ সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন সুন্নত। 

আবু কাতাদা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-কে সোমবারে সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, এ দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনে আমাকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছে বা আমার ওপর কোরআন নাজিল শুরু হয়েছে।’ (মুসনাদে আহদম, ২২৫৪৯) পরিশেষে বলতে চাই , রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। তাই এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান করে তুলতে বেশি বেশি ইবাদত করা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।লেখকঃ ড. আজিজুল আম্বিয়া, কলাম লেখক ও গবেষক । email:[email protected] 

মন্তব্য করুন