শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল খেতে বলেন চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদেরা। জলের অভাব ঘটলে শুধু শরীর খারাপ হয় না, তার প্রভাব পড়ে চোখে মুখেও। টলিডউ হোক বা বলিউড—তারকারা সব সময়ই বলেন, সুন্দর ত্বক পেতে বার বার জল খাওয়া জরুরি।
কিন্তু সত্যিই কি তাই! বেশি জল খেলে ত্বক সুন্দর হয়, আর কম খেলে? সমাজমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে ত্বকের চিকিৎসক মনজোৎ মারোয়া বলছেন, ‘‘স্পর্শকাতর ত্বক এবং জল খাওয়া নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে।’’
কেউ ভাবেন, অতিরিক্ত জল খেলেই বুঝি ত্বক সুন্দর এবং টান টান থাকবে। চিকিৎসকের কথায়, জল খাওয়া জরুরি ঠিকই, তবে যতটা দরকার ততটাই। বেশি জল খেলেই ত্বক সুন্দর হবে এমনটা নয়। বরং দিনে ২-৩ লিটার জল খাওয়া যথেষ্ট।
তবে জল কম খেলে তার প্রভাব চোখে মুখে পড়তে বাধ্য। মনজোৎ বলছেন,‘‘শুষ্ক ত্বক, চোখের নীচে কালি দেখা যায় শরীরে জলের ঘাটতি হলে। ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়াও জল কম খাওয়ার লক্ষণ।’’ একই সঙ্গে তিনি মনে করাচ্ছেন, ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলেও বলিরেখা দ্রুত পড়বে।
কীভাবে শরীরে পানির ঘাটতি দূর হবে?
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল খাওয়া ছাড়াও, বিভিন্ন রকম মরসুমি ফল শরীরে জলাভাব দূর করতে সাহায্য করে। তালিকায় রাখা যায় শসা, তরমুজ-সহ যে কোনও রসালো ফল।
পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চুমুক দেওয়া যায় চিনি ছাড়া লস্যি এবং পাতলা ঘোলে। গরমের দিনে শুধু জলাভাব দূর করতে নয়, ত্বকের জন্যও ভাল টক দই।
সব্জি দিয়ে তৈরি গরম বা ঠান্ডা স্যুপ—দুই-ই রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়। সব্জিতে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ ত্বকের জেল্লা বজায় রাখার জন্যও জরুরি।
অনেকের অবশ্য চা বা কফি খাওয়ার নেশা থাকে। ঘন ঘন নয়, দিনে দু’বারের বেশি চা বা কফি খেতে বারণ করছেন চিকিৎসকেরা। দিনে দু’বার ভেষজ চা শরীর এবং ত্বকের জন্য ভাল। তবে মনজোৎ বলছেন, ‘‘ত্বকের ধরন স্পর্শকাতর হলে খুব গরম চা বা কফি না খাওয়াই ভাল। চা বা কফির গরম বাষ্প ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।’’
মন্তব্য করুন