শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

পানির অপর নাম ‌‘জীবন’ নাকি ‘মরণ’!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  ০৩ মার্চ ২০২৫, ১০:১৮

জলের এক নাম যদি জীবন হয়, তা হলে অন্য নামটি কী? নির্ঘাত ‘মরণ’! কেন? কারণ, এত দিন ধরে জেনে এসেছেন, দেহের ওজন বাড়ে মেদের জন্য। এখন আবার তার সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে জলও। ক্যালোরি পুড়িয়ে না হয় মেদ গলিয়ে ফেললেন। কিন্তু মরণপণ চেষ্টা করেও জলের ওজন কমাতে পারছেন না। 

তা হলে কী জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেবেন? এ দিকে সুস্থ থাকতে গেলে তো সারা দিনে অন্তত পক্ষে ৭-৮ গ্লাস জল খেতে বলেন চিকিৎসকেরা।

তা হলে সেখান থেকেই কি শরীরে জল জমছে? চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে জমা জলের সঙ্গে খাওয়ার জলের কোনও সম্পর্ক নেই। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস কিংবা শারীরিক সমস্যার কারণে শরীরের নানা প্রকোষ্ঠে, অস্থিসন্ধিতে জল জমতে শুরু করে। 

টিস্যুও বেশ অনেকটা পরিমাণ জল ধরে রাখতে পারে। মেদ তো রয়েছেই, সঙ্গে এই জলের কারণেই দেহের ওজন অনেকটা বেড়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে ‘ওয়াটার রিটেনশন’ বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে মেদ ঝরানো সহজ হলেও জলের ওজন কিন্তু সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।

কী কারণে ‘ওয়াটার রিটেশন’ হয়?

১) খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকলে বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে ‘ওয়াটার রিটেনশন’ বা জলের পরিমাণ বেড়ে যেতে পার। এই কারণে ইলেক্ট্রোলাইটের সমতা বিঘ্নিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

২) এই ধরনের সমস্যা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশেষত ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে বা পরে। কারণ, প্রতি মাসে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে এবং পরে প্রজননে সহায়ক হরমোনগুলির মাত্রা ওঠা-নামা করে। যে কারণে শরীরে ফ্লুইডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

৩) আবার এমন কিছু রোগ রয়েছে, যেগুলি শরীরে জলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। লিভার, কিডনি বা হার্টের নির্দিষ্ট বেশ কিছু সমস্যায় শরীরে জলের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে।

জল কম খেলে চলবে না, তা হলে ‘ওয়াটার ওয়েট’ নিয়ন্ত্রণ করবেন কী ভাবে?

১) খাবারে নুনের পরিমাণ কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, প্যাকেটবন্দি বা কৌটোবন্দি খাবার, তৎক্ষণাৎ বানিয়ে ফেলা যায়, এমন খাবারও ডায়েট থেকে বাদ দিতে হবে।

২) পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। জল কম খেয়ে শরীরে জমা ‘জল’-এর পরিমাণ কমানো যাবে না। উল্টে বেশি করে জল খেলে শরীরে জমা ‘টক্সিন’ সহজে বেরিয়ে যাবে।

৩) শরীরচর্চা করতে হবে। নিয়মিত শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করলে ‘ওয়াটার রিটেনশন’-এর সম্ভাবনা কমে।

৪) ডায়েটে সোডিয়ামের বদলে পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। পটাশিয়াম কিন্তু শরীরে জমা ফ্লুইডের পরিমাণ হ্রাস করতে সাহায্য করে।

৫) কার্বোহাইড্রেট খেতে হবে মেপে। কারণ, অতিরিক্ত কার্ব কিন্তু দেহের পেশি এবং লিভারে গ্লাইকোজেন রূপে জমা হতে থাকে। এই উপাদানটির কিন্তু জল ধরে রাখার ক্ষমতা আছে। ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন