তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে ইটালির মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘খুব ঘনিষ্ঠভাবে’ কাজ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজেই এই কথা জানিয়েছেন।
অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে ভেঙে দিতে দুই দিনের আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য। মানবপাচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও আন্তর্জাতিকভাবে লড়াই জোরদার করতে ৪০টি দেশের মন্ত্রী ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে।
মানবপাচার ঠেকাতে এটিই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ৩১ মার্চ যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে ১ এপ্রিল পর্যন্ত।
সম্মেলনের প্রথম দিন সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইটালির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা প্রসঙ্গে বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ‘‘যে উপায় কাজে আসবে, আমি সেটাই করে দেখতে চাই।’’
তাই ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ইটালিয়ান মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘‘খুব ঘনিষ্ঠভাবে’’ কাজ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।
মানবপাচার বিরোধী সম্মেলনে সশরীরে অংশ নিতে না পারলেও ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন ইটালির অতি ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি।
তিনি বলেছেন, অভিবাসী প্রক্রিয়াকরণে আলবেনিয়ার সঙ্গে করা চুক্তিটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবার দৃষ্টি কাড়ছে এবং ঐক্যমত্য অর্জন করছে।
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আলবেনিয়ায় নির্মাণ করা আশ্রয়কেন্দ্র দুটিকে সেন্টার্স অব পার্মানেন্স অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন (সিপিআর) অর্থাৎ অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারে ডিক্রি অনুমোদন দিয়েছে ইটালি। গত ২৮ মার্চ দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ডিক্রি জারি করা হয়।
ভিডিও বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘‘আমরা কিয়ারের সঙ্গে একমত যে, আমাদের কল্পনা করতে এবং উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজতে গিয়ে পিছপা হওয়া উচিত নয়। আলবেনিয়ার সঙ্গে চুক্তির মধ্য দিয়ে ইটালি সেটাই করেছিল।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘মডেলটি প্রথমে সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু পরে এই ইস্যুতে ঐক্যমত্য তৈরি হচ্ছে। সেটা আজ এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৃতীয় দেশগুলোতে রিটার্ন হাব তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।’’
মেলোনি বলেন, ‘‘এর অর্থ হলো, আমরা ঠিক ছিলাম এবং আমরা যে সাহস দেখিয়েছি তার স্বীকৃতিও মিলেছে।’’
তৃতীয় দেশে আশ্রয় প্রকিয়াকরণে যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা সম্পর্ক জানতে চাওয়া হয় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, যা কিছু বিবেচনা করা হবে, তা অবশ্যই ‘‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’’ এবং ‘‘সাশ্রয়ী’’ হতে হবে।
সাংবাদিকদের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আরো বলেন, ‘‘আমি জর্জা মেলোনির সঙ্গে দেখা করতে ইটালি গিয়েছিলাম। মূলত তার কিছু কাজ নিয়ে তার সঙ্গে গভীর আলোচনা করতেই গিয়েছিলাম৷ ফলে আপনারা এখন বলতেই পারেন, আমরা তার সঙ্গে এবং ইটালীয়দের সঙ্গে এই বিষয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’’
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কথায় এটুকু বোঝা গেছে যে, তৃতীয় দেশে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণে শুধু নিরাপদ বলে বিবেচিত দেশগুলোকে বেছে নেয়া হতে পারে।
প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের বলকান অঞ্চলের কোনো একটি দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারি সূত্র অনুসারে, এই আলোচনাটি এখনও ‘‘একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে’’ রয়েছে। শেষপর্যন্ত যদি আলোচনাটি সফল হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অর্থ দেয়া হবে বলকান অঞ্চলের আয়োজক দেশটিকে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার জানিয়েছেন, ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ‘‘শুধু কৌশল’’ রপ্ত করবেন, বিষয়টি এমন নয়। বরং ‘‘অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো যা করছে’’ তা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর পদ্ধতির দিকে নজর দেবেন তারা।
কুপার আরো বলেন, সরকারের নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত যাতে আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ইসিএইচআর) এর অনুচ্ছেদ ৮ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অনুচ্ছেদে ৮-এ পারিবারিক জীবনের অধিকার এবং তা কীভাবে অভিবাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বেশ কয়েকটি ঘটনায় যুক্তরাজ্যকে পিছু হটতে হয়েছে, মানবাধিকার কনভেনশনের ৮ অনুচ্ছেদের কারণে৷ তাই ব্রিটিশ আদালতে এই অনুচ্ছেদকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।
এমনকি, ডেনমার্কের কঠোর অভিবাসন নীতির দিকেও নজর রাখছে ব্রিটিশ সরকার৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলি। এটা বলা বাহুল্য যে আমরা ইসিএইচআর এর অংশ বলেই ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো দেশের সঙ্গে নানা (অভিবাসন সংক্রান্ত) নানা ধরনের চুক্তিগুলো করতে পারছি।’’
তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে ইটালির মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘খুব ঘনিষ্ঠভাবে’ কাজ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজেই এই কথা জানিয়েছেন।
অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে ভেঙে দিতে দুই দিনের আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য। মানবপাচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও আন্তর্জাতিকভাবে লড়াই জোরদার করতে ৪০টি দেশের মন্ত্রী ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে।
মানবপাচার ঠেকাতে এটিই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ৩১ মার্চ যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে ১ এপ্রিল পর্যন্ত।
সম্মেলনের প্রথম দিন সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইটালির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা প্রসঙ্গে বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ‘‘যে উপায় কাজে আসবে, আমি সেটাই করে দেখতে চাই।’’
তাই ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ইটালিয়ান মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘‘খুব ঘনিষ্ঠভাবে’’ কাজ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।
মানবপাচার বিরোধী সম্মেলনে সশরীরে অংশ নিতে না পারলেও ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন ইটালির অতি ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি।
তিনি বলেছেন, অভিবাসী প্রক্রিয়াকরণে আলবেনিয়ার সঙ্গে করা চুক্তিটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবার দৃষ্টি কাড়ছে এবং ঐক্যমত্য অর্জন করছে।
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আলবেনিয়ায় নির্মাণ করা আশ্রয়কেন্দ্র দুটিকে সেন্টার্স অব পার্মানেন্স অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন (সিপিআর) অর্থাৎ অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারে ডিক্রি অনুমোদন দিয়েছে ইটালি। গত ২৮ মার্চ দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ডিক্রি জারি করা হয়।
ভিডিও বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘‘আমরা কিয়ারের সঙ্গে একমত যে, আমাদের কল্পনা করতে এবং উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজতে গিয়ে পিছপা হওয়া উচিত নয়। আলবেনিয়ার সঙ্গে চুক্তির মধ্য দিয়ে ইটালি সেটাই করেছিল।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘মডেলটি প্রথমে সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু পরে এই ইস্যুতে ঐক্যমত্য তৈরি হচ্ছে। সেটা আজ এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৃতীয় দেশগুলোতে রিটার্ন হাব তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।’’
মেলোনি বলেন, ‘‘এর অর্থ হলো, আমরা ঠিক ছিলাম এবং আমরা যে সাহস দেখিয়েছি তার স্বীকৃতিও মিলেছে।’’
তৃতীয় দেশে আশ্রয় প্রকিয়াকরণে যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা সম্পর্ক জানতে চাওয়া হয় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, যা কিছু বিবেচনা করা হবে, তা অবশ্যই ‘‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’’ এবং ‘‘সাশ্রয়ী’’ হতে হবে।
সাংবাদিকদের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আরো বলেন, ‘‘আমি জর্জা মেলোনির সঙ্গে দেখা করতে ইটালি গিয়েছিলাম। মূলত তার কিছু কাজ নিয়ে তার সঙ্গে গভীর আলোচনা করতেই গিয়েছিলাম৷ ফলে আপনারা এখন বলতেই পারেন, আমরা তার সঙ্গে এবং ইটালীয়দের সঙ্গে এই বিষয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’’
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কথায় এটুকু বোঝা গেছে যে, তৃতীয় দেশে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণে শুধু নিরাপদ বলে বিবেচিত দেশগুলোকে বেছে নেয়া হতে পারে।
প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের বলকান অঞ্চলের কোনো একটি দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারি সূত্র অনুসারে, এই আলোচনাটি এখনও ‘‘একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে’’ রয়েছে। শেষপর্যন্ত যদি আলোচনাটি সফল হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অর্থ দেয়া হবে বলকান অঞ্চলের আয়োজক দেশটিকে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার জানিয়েছেন, ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ‘‘শুধু কৌশল’’ রপ্ত করবেন, বিষয়টি এমন নয়। বরং ‘‘অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো যা করছে’’ তা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর পদ্ধতির দিকে নজর দেবেন তারা।
কুপার আরো বলেন, সরকারের নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত যাতে আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ইসিএইচআর) এর অনুচ্ছেদ ৮ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অনুচ্ছেদে ৮-এ পারিবারিক জীবনের অধিকার এবং তা কীভাবে অভিবাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বেশ কয়েকটি ঘটনায় যুক্তরাজ্যকে পিছু হটতে হয়েছে, মানবাধিকার কনভেনশনের ৮ অনুচ্ছেদের কারণে৷ তাই ব্রিটিশ আদালতে এই অনুচ্ছেদকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।
এমনকি, ডেনমার্কের কঠোর অভিবাসন নীতির দিকেও নজর রাখছে ব্রিটিশ সরকার৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলি। এটা বলা বাহুল্য যে আমরা ইসিএইচআর এর অংশ বলেই ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো দেশের সঙ্গে নানা (অভিবাসন সংক্রান্ত) নানা ধরনের চুক্তিগুলো করতে পারছি।’’
মন্তব্য করুন