শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

স্বাস্থ্যখাতে বিদেশি কর্মী নেবে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১৬ মার্চ ২০২৫, ১০:০৯

স্বাস্থ্যখাতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সমাজসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে৷ বুধবার (১২ মার্চ) এই খাতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এমন নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার৷

৬ মার্চ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোম অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত ও রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম’ (এনআরএম) গত বছর রেকর্ড ১৯ হাজার ১২৫ জনকে আধুনিক দাসত্বের সম্ভাব্য শিকার হিসাবে নথিভুক্ত করেছে৷ আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে সংখ্যাটি ছিল ১৭ হাজার৷

এছাড়াও স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতে কর্মরত অভিবাসী কর্মীরাও শোষণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ বাস্তবতা হলো, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতটি অনেকাংশেই অভিবাসনের উপর নির্ভরশীল৷ তাই এই খাতটিতে শ্রম শোষণ ও নিপীড়ন ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার৷

গত বছরের নভেম্বরে নিয়োগকারী কয়েকটি সংস্থা বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়েও তাদের কাজ দিতে ব্যর্থ হয়েছে৷ ওই সময় অভিযুক্ত নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সরকার৷ ফলে, কর্মহীন অভিবাসী কর্মীদের সঙ্গে বেকার কর্মীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে৷ কেউ কেউ কোনোরকম দিন পার করছেন৷ এরপরই স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাজ্যে না এনে, বরং দেশটিতে অবস্থানরত কর্মীদের কাজ দিতে নির্দেশ দিল সরকার৷

গত বছরের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান শ্রম শোষণ ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘনে জড়িত তাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি বাতিল করা হবে৷ অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে৷

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী কর্মী নিয়োগকারী অন্তত ১৭৭টি সামাজিক পরিচর্যা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা কেয়ার ফার্মের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও শ্রম শোষণের অভিযোগ উঠার পর এমন সিদ্ধান্ত নেয় লেবার পার্টির সরকার৷

দেশটির অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা তখন বলেছিলেন, শ্রম শোষণ অগ্রহণযোগ্য৷

ইংল্যান্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচর্যাকর্মী অভিবাসী৷ তাদের অনেকেই নাইজেরিয়া, জিম্বাবোয়ে, ভারত এবং ফিলিপাইন্সের মতো দেশ থেকে এসেছেন৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স/এমপিকস/জোনাথন ব্র্যাডি
ইংল্যান্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচর্যাকর্মী অভিবাসী৷ তাদের অনেকেই নাইজেরিয়া, জিম্বাবোয়ে, ভারত এবং ফিলিপাইন্সের মতো 

গত মাসে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যাখাতে কর্মী ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা তিন হাজারেরও বেশি মানুষের উপর একটি জরিপ করা হয়েছে৷ এতে দেখা গেছে, ব্রিটেনে আসার সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাওয়ার আশায় অনেক অভিবাসী নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন৷ তারপরও কোনো কাজ পাননি৷

জরিপে আরো দেখা গেছে যে, অনেক অভিবাসী চাপাচাপি, গাদাগাদি করে এক ঘরে বাস করছেন এবং ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম আয় করছেন তারা৷

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি পরিচর্যাকর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিতে হবে৷ এতে যারা দেশটিতে কাজের আশায় এসে কোনোরকম জীবন যাপন করছেন, তাদের অবস্থার উন্নতি হবে৷

ব্রিটিশ অভিবাসনমন্ত্রী সীমা মালহোত্রা বলেন, ‘‘যারা যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পরিচর্যায় এসেছেন, তাদের নির্যাতন ও শোষণমুক্ত থাকা উচিত৷’’

ইংল্যান্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচর্যাকর্মী অভিবাসী৷ তাদের অনেকেই নাইজেরিয়া, জিম্বাবোয়ে, ভারত এবং ফিলিপাইন্সের মতো দেশ থেকে এসেছেন৷ ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আসার পর হাজার হাজার শূন্যপদ পূরণ এবং বয়স্ক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অভিবাসী পরিচর্যাকর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়৷

দাতব্য সংস্থা এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলো বলছে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্যবস্থায় ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে স্পনসরের মাধ্যমে কর্মীদের ভিসা দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু নিয়োগকর্তা অভিবাসী কর্মীদের নির্যাতন, শোষণের পাশাপাশি নির্বাসনের হুমকিও দিয়ে থাকে৷

মন্তব্য করুন