অস্ট্রিয়ার নতুন সরকার বুধবার দেশটিতে অবস্থানরত শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের সুযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা প্রাথমিকভাবে ছয় মাস বলবৎ থাকবে।
দেশটির সরকার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির আশ্রয়কেন্দ্র ও অবকাঠামোগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলন এই প্রথম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলো অস্ট্রিয়া।
ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অস্ট্রিয়ার ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী ক্লাউডিয়া প্লাকোল্ম বলেন, ‘‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সরকারি ডিক্রি জারি করা হবে। মে মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে পরিণত হবে।’’
তিনি আরো জানান, “আমরা আমাদের সক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছি। এখন আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শ্রমব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হবে। নতুন অভিবাসীদের আগমনের কারণে সফলভাবে সমাজে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।”
ক্লাউডিয়া প্লাকোল্ম উল্লেখ করেন, বহু শরণার্থী জার্মান ভাষা শেখা, চাকরি খোঁজা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে সরকারের কাজ এখন “টাইটানিক মাত্রার” এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই সময়সীমা ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পারিবারিক পুনর্মিলনের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারই শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশটিতে অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে এক সন্দেহভাজন সিরীয় আশ্রয়প্রার্থীর ছুরি হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। এরপর থেকেই সরকার অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টোকারের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থি পিপল’স পার্টি (ওভিপি) জানিয়েছে, দেশের মৌলিক অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রিয়ার প্রধান শৌরা হাশেমি বলেন, “যখন কোনো সরকার আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন দিয়ে তাদের মেয়াদ শুরু করে সেটিকে অশনিসংকেতই মনে হচ্ছে।’’
গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে চরম ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) ২৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও দলটি সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। পরে মধ্য-ডানপন্থি ওভিপি, মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থি নয়েস পার্টি একত্রিত হয়ে একটি জোট সরকার গঠন করে।
মন্তব্য করুন