শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০১ মার্চ ২০২৫, ১৪:৪১

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন এক লাখ আট হাজারেরও বেশি অভিবাসী। সংখ্যাটি বছরের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

২০০১ সাল থেকে আশ্রয় সংক্রান্ত তথ্যগুলো নথিভুক্ত করতে শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। সেই হিসাবে দেখা গেছে, দুই যুগের মধ্যে গত বছরই রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আশ্রয় চেয়ে দেশটিতে আবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছিল ৯১ হাজার ৮১১টি। আর গত বছর সংখ্যাটি ১৮ ভাগ বেড়ে হয়েছে এক লাখ আট হাজার ১৩৮টি। এর আগে রেকর্ড আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছিল ২০০২ সালে। সংখ্যাটি ছিল এক লাখ তিন হাজার ৮১।

সম্প্রতি ফরাসি উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে কিংবা অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই ঘোষণার কিছুদিন পরই রেকর্ড আশ্রয় আবেদনের তথ্যটি প্রকাশ করেছে সরকার।

গত সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফ্যারাজের অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে পার্টি ৪০ লাখ ভোট পেয়েছে। বলা হচ্ছে, ব্রিটেনে অতি ডানপন্থিদের জন্য এটি অভূতপূর্ব অর্জন। তাই অভিবাসন নিয়ে বেশ চাপের মধ্যে আছে স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সরকার৷ অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চান তারা৷ নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

স্বাস্থ্য ও পরিচর্যাকর্মীদের জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের পর যুক্তরাজ্য গত বছর কম সংখ্যক বিদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে। হোম অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দক্ষ কর্মী হিসাবে ভিসা পেয়েছেন দুই লাখ ১০ হাজার ৯৮ জন৷ সংখ্যাটি তার আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কম।

ভিসা পাওয়া কর্মীদের মধ্যে স্বাস্থ্য এবং পরিচর্যাকর্মীর সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ১৭৪, যা আগের বছরের তুলনায় ৮১ শতাংশ কম৷

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছর আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন পাকিস্তানিরা৷ মোট আবেদনের ৯ দশমিক ৭ শতাংশই করেছেন তারা৷ এরপর আফগানিস্তান ও ইরানের নাম উল্লেখযোগ্য।

আশ্রয় আবেদনে ভিয়েতনামের নাগরিকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে৷ ২০২৩ সালে দেশটির দুই হাজার ৪৬৯ জন নাগরিক ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন৷ আর পরের বছর সংখ্যাটি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে পাঁচ হাজার ২৫৯।

জুলাইয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর, স্টারমার তার রক্ষণশীল পূর্বসূরী ঋষি সুনাকের বহুল আলোচিত রুয়ান্ডা পরিকল্পনা বাতিল করেন।ইংলিশ চ্যানেলে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে ভেঙে দিয়ে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল বলেছেন, সরকার আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি, যাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

হোম অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ৮০২ জন।

ঈগল বলেন, ‘‘আগের সরকার চার বছরের ব্যবধানে নিট অভিবাসন চারগুণ বাড়ানোর পর, নিয়মিত অভিবাসন যাতে কমে আসে আমরা তা নিশ্চিত করছি।’’ পরিসংখ্যানও বলছে, নিয়মিত অভিবাসনও যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

২০২৩-২৪ সালের নিট অভিবাসন ছিল সাত লাখ ২৮ হাজার৷ তার আগের বছর ছিল রেকর্ড নয় লাখ ছয় হাজার। আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, গত সরকার ভিসা নীতি কিছুটা শিথিল করেছিল, ফলে অনেকেই এই সুযোগটাকে ব্যবহার করেছে।

ছোট নৌকায় চড়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যারা যুক্তরাজ্যে এসেছেন, আশ্রয় আবেদনে তাদের সংখ্যা ছিল ৩২ শতাংশ। গত বছর, চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮১৬ জন, আগের বছরের তুলনায় সংখ্যাটি ২৫ শতাংশ বেশি।

মন্তব্য করুন