মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া চীনা রেড ক্রসের একটি গাড়িবহরে গুলি চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। ফলে ত্রাণ না দিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে বহরটিকে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মিয়ানমারের সামরিক সরকার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সেনা সরকার তথা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের (এসএসি) মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ১ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের সেনারা নয়টি গাড়ির একটি বহরের ওপর গুলি চালায়। কারণ, তাদের চলাচলের পথ সম্পর্কে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
শান রাজ্যের নওংখিও টাউনশিপের কাছে এই ঘটনা ঘটে, যা ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মান্দালয়ের উত্তরে অবস্থিত। অঞ্চলটি ২০২১ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে চলমান গৃহযুদ্ধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জাও মিন তুন বলেন, মাঠে অবস্থানরত সামরিক ইউনিট বহরটিকে থামানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। ২০০ মিটার দূর থেকে সেনারা লাইট সিগন্যাল দেয়, পরে ১০০ মিটারের মধ্যে এলে তিনবার আকাশে গুলি চালায়। এরপর বহরটি নওংখিও টাউনশিপে ফিরে যায়।
তিনি জানান, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। তার দাবি, কিছু গোষ্ঠী ভূমিকম্পের ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
গত ২৮ মার্চ মিয়ানমারে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্প। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৮৬ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
মিয়ানমারের ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) দাবি করেছে, সেনারা নওংখিও টাউনশিপে ত্রাণবাহী বহরটির ওপর মেশিন গান দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
টিএনএলএ এক বিবৃতিতে বলেছে, বহরটি সামরিক কাউন্সিলকে জানিয়ে মান্দালয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল। কিন্তু পথে গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে নওংখিওতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
গোষ্ঠীটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্প-দুর্গত মিয়ানমারের মানুষের জন্য চীনা রেড ক্রস সোসাইটির নয়টি গাড়ির বহর বর্তমানে টিএনএলএ’র নিরাপত্তায় রয়েছে এবং এটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমরা আশা করি মিয়ানমারের সব পক্ষ ভূমিকম্প-ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেবে এবং চীনসহ অন্যান্য দেশের উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণ সামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য পরিবহন পথ খোলা রাখা ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা জরুরি।
চীনা রেড ক্রস এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মন্তব্য করুন