শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

প্রেমে জড়িয়ে রিয়া যেন কলঙ্কিনী রাধা!

বিনোদন ডেস্ক
  ২৩ মার্চ ২০২৫, ১৩:৪৬

সুশান্ত সিংহ রাজপুত আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁকে প্ররোচিত করেছেন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী। প্রয়াত অভিনেতার পরিবার এবং অনুরাগীদের এমনই দাবি ছিল। সুশান্তের বাবা, দিদির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিনেত্রী রিয়া এবং তাঁর ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। 

পরে আদালতে মামলা ওঠার পর তাঁদের জেল হেফাজত হয়। সেই সময় এ-ও শোনা গিয়েছিল, তিনি নিয়মিত মাদক সরবরাহ করতেন সুশান্তকে। রিয়া বার বার বলার চেষ্টা করেছেন, তিনি কোনও ভাবে সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে মাদক সরবরাহ করার নেপথ্যেও তাঁর হাত ছিল না।

কেউ শোনেনি তাঁর কথা। কেউ বিশ্বাসও করেননি তাঁকে। প্রেমে জড়িয়ে রিয়া যেন কলঙ্কিনী রাধা! অভিনেত্রী গারদের পিছনে আটকা পড়তেই তাঁকে বয়কট করেছিল বলিউড। সুশান্তের মৃত্যু তাঁকে সমগ্র দেশবাসীর কাছে খলনায়িকা বানিয়ে দিয়েছিল। শনিবার রাতে অবশেষে অভিশাপমুক্ত হলেন তিনি। 

সিবিআই সুশান্ত সিংহ রাজপুত মৃত্যু তদন্তে ইতি টেনেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্ত চলার পর কেন্দ্রীয় সংস্থা এ দিন মুম্বই অআদালতে তাদের অন্তিম রিপোর্ট জমা দেয়। অন্তিম রিপোর্টেও সিবিআই নিশ্চিত করেছে, আত্মহত্যাই করেছিলেন অভিনেতা। তদন্তে অন্য কোনও দিক উঠে আসেনি।একই সঙ্গে রিয়া এবং তাঁর ভাইয়ের উপর থেকে যাবতীয় চার্জশিট তুলে নেওয়া হয়। সিবিআইয়ের ঘোষণার পর শনিবার থেকে রবিবার— এক রাতের মধ্যে সেই ‘খলনায়িকা’ নেটাগরিকদের কাছে ‘নায়িকা’! তাঁদের দাবি, রিয়ার কাছে প্রত্যেকের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

এই ধরনের মন্তব্যেই আপাতত ছয়লাপ সমাজমাধ্যম। কেউ লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তোমায় সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। তোমায় অকারণ দোষারোপের জন্য দেশবাসীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।” কারও মত, “এখন রিয়ার উচিত মানহানির মামলা করা। এই একটি মামলা তাঁর জীবন কলঙ্কিত করেছে। পেশাজীবন নষ্ট করেছে। একা তিনি নন, তাঁর পরিবার সমান ভাবে কলঙ্কিত।” কেউ কুর্নিশ জানিয়েছেন, রিয়ার সাহসিকতাকে। গোটা দেশ যখন তাঁর বিরুদ্ধে তখনও তিনি সাহসের সঙ্গে লড়াই করে গিয়েছেন।

যাঁকে নিয়ে এত কথা, তিনি কী বলছেন? শনিবার রাতে রিয়া কোনও বক্তব্য রাখেননি। তবে তাঁর আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “সাড়ে চার বছর পর সিবিআই সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলায় ইতি টানল। আমরা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে কৃতজ্ঞ, তারা মামলার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে তদন্ত করে তার পর মামলায় দাঁড়ি টেনেছে। 

এর থেকেই প্রমাণিত, অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে এত দিন ধরে সমাজমাধ্যম এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার চলছিল। আমরাও সুশান্তের অকালমৃত্যুতে গভীর শোকাহত। তা বলে সংবাদমাধ্যম লাগাতার ভুল তথ্য পরিবেশন করে নির্দোষকে কাঠগড়ায় তুলবে, এটা মানা যায়? আশা, আগামীতে অন্য কারও ক্ষেত্রে এই ধরনের ন্যক্কারজনক আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না।”

মন্তব্য করুন