শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

ইউরোপে যাওয়ার আশায় গেমঘরে অমানবিক জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২১:৪৯
ছবি-সংগৃহীত

স্বপ্ন ছিল যাবেন ইতালি। সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করে সংসারের অভাব ঘোচাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে। উল্টো জলে গেছে ২২ লাখ টাকা। সইতে হয়েছে অমানবিক নির্যাতন।

লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ (মুক্তিপণের জন্য আটক রেখে নির্যাতন করার জায়গা) থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়েছেন লোকমান হোসেন নামের এক যুবক। পরিবারের দাবি, বুধবার (২ এপ্রিল) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের দালাল দাদন জমাদ্দারের মাধ্যমে লিবিয়ায় জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

লোকমান হোসেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নলী জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী লোকমান হোসেন বলেন, ‘শাহ আলম নামের একজনকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছি বিদেশ যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমাকে বিক্রি করে দেয় অন্য এক দালালের কাছে। 

তারপর লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য শুরুতে ১০ লাখ টাকা দিয়েছি সিলেটের হবিগঞ্জের বাসিন্দা শিরু ইসলাম নামের এক দালালকে। কিন্তু আমাকে ইতালি পাঠায়নি। আমাকে অনেক নির্যাতন করতো। বাঁচার জন্য বাড়িতে টাকা চাইতাম। 

বাড়ির বসতঘরের জমি বিক্রি করে দিয়ে মাদারীপুরের দাদন জমাদ্দারকে দিয়েছি ১২ লাখ। লিবিয়ায় ত্রিপলি জহুরা ঘাট ওসামা ক্যাম্পের একটি রুমে বন্দি করে রাখে আমাকে। মুক্তিপণের জন্য প্রতিদিন নির্যাতন করতো।

লোকমান হোসেনের স্ত্রী রিমি আক্তার (২৮) বলেন, স্বামীকে মুক্ত করার জন্য দালালের বাড়িতে গিয়ে আমরা অনেকদিন থেকেছি। তিনি নিশ্চিত মুক্তি পেয়েছেন জেনে সেখান থেকে আমরা এসেছি। আমার স্বামী আজ ১১ মাস পরে দেশে ফিরেছেন। বেঁচে আছেন কিনা সেটাও জানা ছিল না।

এ বিষয়ে সাপলেজা ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) কাজল খান বলেন, ‘লোকমান দেশে ফিরেছেন। তার শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন রয়েছে। এখন তার ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন।’

জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ওই যুবকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তিনি অফিসে এলে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন