শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
জাতীয়প্রবাস বাংলাঅপরাধবাণিজ্যরাজনীতিঅন্যান্যসারাদেশমতামতস্বাস্থ্যফিচাররাজধানীপাঠকের কথাআবহাওয়াশিল্প-সাহিত্যগণমাধ্যমকৃষি ও প্রকৃতিইসলামবৌদ্ধহিন্দুখ্রিস্টানআইন-বিচারবিবিধআপন আলোয় উদ্ভাসিতবেসরকারি চাকুরিসরকারি চাকুরি Photo Video Archive

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বইমেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৩

অমর একুশে বইমেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্টল ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’ নজর কেড়েছে আলাদা করে। স্টলটিতে ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষদের বই পড়ার’ কথা শুনে প্রশংসা করছেন অনেকেই। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন বইপড়া।

স্টলে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেনৈ আরিফুর রহমান, জান্নাতুল উষা এবং নাজিম। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘স্পর্শ ফাউন্ডেশনের ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’ ২০১১ থেকে বইমেলায় বই প্রকাশ করে আসছে।’

আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা বই প্রকাশ করি। এ বছর আটটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর সবই ফ্রিতে দিচ্ছি। এর জন্য ফ্রিতে রেজিস্ট্রেশনও ফ্রিতে করতে হয়। আমরা মেলার শেষের দিকে একটা তারিখ ঠিক করি। সে অনুযায়ী আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ১০০ জনের বেশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে বই দেয়া হয়েছে।’

কি কি ধরনের বই আছে জানতে চাইলে উষা বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের বই আছে এখানে। যেমন ছড়া, উপন্যাস, স্বাস্থ্য বিষয়ক বইও রয়েছে। তবে এবার সাড়া একটু কম।’

স্টলে আসা একজন শিক্ষার্থী আশা বলেন, ‘মেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পর্শ ব্রেইল ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন প্রশংসনীয়। এখানে এসে ব্রেইল কেমন হয় সেটা প্রথম দেখলাম। বই ছুঁয়ে দেখলাম। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাও যে সাহিত্যকে এভাবে ধারণ করতে পারেন, দেখেই ভালো লাগছে।’

অমর একুশে বইমেলায় শুধু ছবি তোলার জন্য নজর কেড়েছে আরেকটি ডেমো স্টল। যার নাম ‘৩৬ জুলাই’। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন রূপক ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। অনেকেই দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

রাকিব নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই উদ্যোগটি ভালো লেগেছে। এটা দেখলে জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া আমাদের ভাইবোনদের কথা মনে পড়ে যায়। ৩৬ জুলাই আমাদের একটা আবেগের নাম, অনুভূতির নাম।’

ব্রেইল পদ্ধতি কাগজের ওপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে লিখবার একটি পদ্ধতি। দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা এই উন্নীত বা উত্তল বিন্দুগুলোর ওপর আঙ্গুল বুলিয়ে ছয়টি বিন্দুর নকশা অনুযায়ী কোনটি কোন্‌ অক্ষর তা অনুধাবন করতে পারেন ও লেখার অর্থ বুঝতে পারেন।

ছয়টি বিন্দুর কোনোটিকে উন্নত করে আর কোনোটিকে উন্নত না-করে ৬৩টি নকশা তৈরি করা যায়। এক-একটি নকশা দিয়ে এক-একটি অক্ষর, সংখ্যা বা যতিচিহ্ন বোঝানো হয়। ৬টি বিন্দু বাঁ ও ডান দুটি উল্লম্ব স্তম্ভে সজ্জিত থাকে। অর্থাৎ প্রতি আনুভূমিক সরিতে থাকে দুটি বিন্দু।

বিন্দুগুলোর পরস্পরের আকার ও অন্তর্বর্তী দূরত্ব থাকে অভিন্ন। যেমন, যদি কেবল বাঁ স্তম্ভের ওপরের বিন্দুটি উত্তল থাকে আর বাকি ৫টি থাকে সমতল, তবে এ নকশাটি দ্বারা ইংরেজি বর্ণমালার ‘এ’ অক্ষর বোঝায়। রন্ধ্রযুক্ত ধাতব পাত ব্যবহার করের সাহায্যে হাতে বিশেষ ধরনের কাগজের ওপর ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা যায়। বিকল্পে একটি বিশেষায়িত টাইপরাইটার ব্যবহার করা হয়।

মন্তব্য করুন